নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত একটি নবজাতক হাসপাতালে যা ঘটেছে—তা কেবল একটি চিকিৎসা ত্রুটির অভিযোগ নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক ভয়াবহ অমানবিক চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে।
দুটি নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, এবং সর্বোপরি লাশ আটকে রেখে টাকা আদায়ের মতো নির্মম আচরণ—সব মিলিয়ে এটি একটি সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
প্রথমত, চিকিৎসা একটি মানবিক পেশা—এখানে ভুলের মূল্য হতে পারে একটি প্রাণ। কিন্তু সেই ভুল যদি হয় অবহেলা, অদক্ষতা কিংবা লোভের কারণে, তাহলে তা সরাসরি অপরাধ।
একজন মা যখন অভিযোগ করেন, তার সন্তানকে না জানিয়ে আইসিইউ থেকে বের করা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুর অবস্থা খারাপ হয়েছে—এসব অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এসবের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
দ্বিতীয়ত, মৃত্যুর পরও যদি একটি হাসপাতাল বিলের জন্য লাশ আটকে রাখে—তাহলে সেটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং নির্দয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মানবিকতার সর্বনিম্ন স্তরও যদি না থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসা সেবা কখনোই জিম্মি করে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না।
তৃতীয়ত, দালালচক্রের ভয়াবহ তথ্য আরও উদ্বেগজনক। রোগী ভর্তির জন্য লাখ টাকার দালালি, বিভিন্ন সংস্থার মাসোহারা—এসব যদি সত্য হয়, তাহলে এটি একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির জাল, যেখানে রোগীর জীবন শুধু একটি পণ্য। এই চক্র ভেঙে না দিলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
এমন ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার বিশেষ অনুরোধে একজন কর্মকর্তা বলেন, নবজাতক নামের এই হাসপাতালের কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা নরসিংদীসহ আশেপাশে এলাকা থেকে প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এমনকি এম্বুলেন্স ড্রাইভারকে প্রতিনিয়ত দালালি দিয়েই হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হয়। যেকোনো রোগী ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই দালালি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তারপর নেওয়া হয় চিকিৎসা বিল। এমনও দালাল আছে একজন রোগীকে ভর্তি করিয়ে ১ (এক) লাখ টাকা পর্যন্ত দালালি নেন। দালাল যেন এই নবজাতক হাসপাতালের প্রাণ। এই শিশু মারা গেছে দালালি পরিশোধ করা হয়েছে দালালকে। এত ব্যয় করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন আর কি করবে। হাসপাতালের রেজিস্টার কঠোর মনিটরিং করলেই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ খোদ সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দুজন দালাল আছেন যারা নিয়মিত এই ক্লিনিকগুলি থেকে মোটা অংকের মাসোয়ারা নেন।”
সবশেষে, এই ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, এবং তদারকি সংস্থাগুলো—সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়সারা প্রতিবেদন নয়, বাস্তব শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—স্বাস্থ্যখাতের ভেতরে পচন কতটা গভীরে পৌঁছেছে।
এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও অনেক নিরীহ প্রাণ এভাবে হারিয়ে









Discussion about this post