অপকর্মে বারবার বিতর্কিত ওসি আব্দুল বারী—শেষমেশ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে বারবার বিতর্কে জড়ানো পুলিশ কর্মকর্তা ওসি আব্দুল বারী আবারও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় কর্মরত অবস্থায়ও নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মাত্র চার মাসের মাথায় তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ঊর্ধ্বতন অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দাউদকান্দি মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি পূর্বে গড়ে তোলা অপরাধী নেটওয়ার্ক সক্রিয় করেন এবং বিভিন্ন অসাধু চক্রের সঙ্গে গোপন আঁতাতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে চোরাকারবারিদের সহায়তার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ, থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে তা বিক্রির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওসি আব্দুল বারীকে দাউদকান্দি থানা থেকে প্রত্যাহার করে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আব্দুল বারী।
তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে একটি পত্রিকায় মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই অন্যায়ভাবে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, “যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দেব। কিন্তু অপবাদ নিয়ে কর্মস্থল ছাড়ছি না।”
তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একই ধরনের অভিযোগে একাধিকবার অভিযুক্ত হওয়া এবং বারবার প্রত্যাহারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিষয়টি বিচ্ছিন্ন নয় বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা।
ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।









Discussion about this post