নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সুরুজ মিয়াকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে । যার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ফতুল্লা থানা পুলিশ ও র্যাবের অভিযানের পর এবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফতুল্লা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ হাবিব (২০), মো. সোহেল (৩০), মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আনার (২৪), মোহাম্মদ ফয়সাল মোল্লা (৩২), ওয়াসেল হোসেন নাহিদ (২৭), মাসুদ (৫২), বাপ্পি (২৩), জামাল (৪৮) ও কাইয়ুম (২২)। এদের মধ্যে নাহিদ, সোহেল, হাবিব ও আনোয়ার মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
সুরুজ মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের সকলেই স্থানীয় আওয়ামীলীগ মুমূর্ষু নেতার ঘনিষ্ঠ সহচর।
ফতুল্লার কাশিপুরে সকল ধরণের অপরাধের মূল হোতা ওই আওয়ামীলীগ মুমূর্ষু এক নেতা। স্থানীয় ওই আওয়ামীলীগ নেতা শারিরীকভাবে চলাচলে অক্ষম হলেও সকল নাটের গুরুই তিনি। ওই আওয়ামীলীগ নেতা এতটাই ভয়ংকর যে তার কথা কেউ মুখ খুলে বলতেও সাহস করে না।
তবে অনেকেই বলেছেন, ‘স্থানীয় এই নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার পরও সুরুজ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও সুরুজ মিয়ার ছেলেরা সাংসদ পুত্রের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকান্ডের গ্রিন সিগনাল দেয় মুমূর্ষু এই নেতা। যার একটি রেকর্ড রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে ।
কাশিপুরের সকল ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারে একের পর এক হত্যা, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নেতাকে তুষ্ঠ রেখে এবং অনুমতি নিয়েই চলছে নৈরাজ্য। ক্রাইমজোন যেন কাশিপুর। প্রতিনিয়তঃ কোন না কোন অপরাধ ঘটেই চলেছে।
শাসক দলের একজন শীর্ষ নেতা, নেতা পুত্র, নেতার চেলা চামুন্ডাদের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই চলছে সকল ধরণের অপরাধ। এমন অপরাধের ধারাবাহিকতায় প্রকাশ্যে।
এর আগে গত ২৯ জুন ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় আসামি বাপ্পি ও জামালকে এবং গত ৩০ জুন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে র্যাব-১১ চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি আলাউদ্দিন ওরফে হীরাসহ চার আসামিকে
শনিবার (২৯ জুন) গ্রেপ্তার করে। সবমিলিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে।
শুক্রবার (২৮ জুন) রাতে নিহত সুরুজ মিয়ার ছেলে মুন্না বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সালাউদ্দিন সালু ও হীরাসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে সুরুজ মিয়া আলীপাড়া জামে মসজিদে থাকাকালীন আলাউদ্দিন ওরফে হীরার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন প্রথমে ভিকটিমের বড় ছেলে রাজু (৪৩) এবং ছোট ছেলে জনির (৪১) পথরোধ করে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে রামদা, বগিদা, ছোরা, লোহার রড ছিল। একপর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হীরা হাতে থাকা রামদা দিয়ে রাজুর মাথায় কোপ দিতে গেলে রাজু হাত দিয়ে ঠেকালে হাতের কনুয়ের ওপর আঘাত লেগে গুরুতর জখম হন। অন্যান্য আসামিরাও রাজু ও জনিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। নামাজ শেষে সুরুজ মিয়া ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তার ওপরেও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে সুরুজ মিয়া হামলাকারীদের একজনের হাত থেকে রামদা ছিনিয়ে নিলেও সন্ত্রাসীরা তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
Discussion about this post