সোনারগাঁয় প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পিরোজপুর ইউনিয়ন।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। দা, বটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের একটি পক্ষের সঙ্গে পাঁচানি গ্রামের আরেকটি পক্ষের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ থেকেই এ সহিংসতার সূত্রপাত। সাবেক ইউপি সদস্য মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের বিরোধ সম্প্রতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
সংঘর্ষে আহত পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিত হামলা চালায়।
এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই মসজিদের ছাদে আশ্রয় নিলেও সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়া ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঁচানি গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। সকালে নদীতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সংঘর্ষের পর এলাকায় গিয়ে তিনি একাধিক বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ জানান, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে এলাকায় টহল দিচ্ছে। আপাতত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।









Discussion about this post