নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে যে মাদকের বিশাল আস্তানা গড়ে উঠেছে—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন মিললো মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে কাচপুরে এক বিশাল জনসভায় তিনি নারায়ণগঞ্জকে মাদকের অন্যতম ট্রানজিট ও ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের পরপরই ফতুল্লা এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে জেলার ভয়াবহ মাদক পরিস্থিতি।
মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ নিউ চাষাড়া সংলগ্ন ইসদাইর নতুন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বিকল্প মাদক ‘ফায়ারডেল’ সিরাপের ৬৫০ বোতল উদ্ধার করে। এ সময় দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. মতিন মনির (৪৮) ও মো. শমসের আলী (৩২)।
উদ্ধার করা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ১২-০৮৫৫।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক মিলন ফকিরের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ব্যবহৃত যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে রিমান্ড আবেদনসহ তাদের পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তারেক রহমানের বক্তব্যের পরপরই এমন বড় মাদক উদ্ধার প্রমাণ করে—নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে মাদক ব্যবসা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তারেক রহমান জনসভায় বলেছিলেন, “যেখানে মাদক থাকবে, সেখানে সমাজ ধ্বংস হবে। নারায়ণগঞ্জকে বাঁচাতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।”
ফতুল্লার এই অভিযানে তার সেই বক্তব্য যে কেবল রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন—তা আরও একবার স্পষ্ট হলো।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে নারায়ণগঞ্জকে রক্ষা করতে হলে ধারাবাহিক অভিযান, স্বচ্ছ তদন্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








Discussion about this post