নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী মাইনুল ইসলাম পাভেলকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে, তিনি বিদেশে পলাতক সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত—এই তথ্যটি ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পুলিশের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে পরিচালিত অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলি উদ্ধার প্রমাণ করে যে—এ ধরনের অপরাধীরা এখনও এলাকায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। তবে একই সঙ্গে এটিও স্পষ্ট হচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর আগের মতো নিষ্ক্রিয় নয়; বরং পরিকল্পিত ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের মাধ্যমে তারা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাভেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিসিক শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব ও ছত্রচ্ছায়ার কারণে অতীতে এসব কর্মকাণ্ড দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার গ্রেপ্তার ইঙ্গিত দেয়—রাজনৈতিক পরিচয় বা পূর্বের প্রভাব এখন আর অপরাধীদের রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে না।
এ ক্ষেত্রে কুমিল্লায় আজমেরী ওসমানের এক বডিগার্ডসহ দুজনের গ্রেপ্তার এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ফতুল্লায় পাভেলের আটক হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি একটি ধারাবাহিক অভিযানের অংশ, যা রাজনৈতিক ছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভাঙার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।
তবে বাস্তবতা হলো—শুধু গ্রেপ্তারই চূড়ান্ত সমাধান নয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস, অর্থের যোগানদাতা, নির্দেশদাতা এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত—সেসব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত না হলে অপরাধ চক্র নতুন রূপে আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। সে কারণে পুলিশ যে তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে, তা বাস্তবায়ন এবং মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, পাভেল গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও এটি যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়। নিয়মিত অভিযান, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারই পারে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী সংস্কৃতির শিকড় উপড়ে ফেলতে।
জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে—এটাই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।









Discussion about this post