বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২২ মামলার আসামি সুজনকে বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর রাতে বন্দরের চাঁনপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নতুন স্থাপনা নির্মাণে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়, চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ ও মারধর ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত তার বাহিনী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় এবং সাধারণ মানুষের জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগেও সে এলাকায় কুখ্যাত ছিল সুজন।
অভিযোগ রয়েছে, আধিপত্য বজায় রাখতে সুজন আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গড়ে ওঠে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক।
সেখানে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের অবাধ কেনাবেচা চলত। তার অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে সুজন ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিএসসি-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁনপুর গ্রামে সুজনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ সুজন (২৯) এবং তার সহযোগী রুবেল (৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সুজন কানা মতিনের ছেলে এবং রুবেল মৃত আলীর ছেলে। দুজনই চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা। র্যাব জানায়, সুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ মোট ২২টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।









Discussion about this post