নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে গড়ে ওঠে একাধিক অপরাধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের নাম ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে স্থানীয় একটি চক্র।
সেই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে কথিত “সামেদ আলী বাহিনী”, যারা দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলি ইউনিয়নের বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, চর বক্তাবলি থেকে সাপের চর ব্রিজের গোড়া, প্রতাবনগর মসজিদের সামনে, কয়রা খোলা হয়ে কুইচ্চামারা ব্রিজের আগ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীপথে প্রতিনিয়ত চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি মূলত সামেদ আলী বাহিনী নামে পরিচিত একটি নৌ সন্ত্রাসী দল। তারা নৌ শ্রমিক, বাল্কহেড, ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ও নৌযান চালকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতাবনগর এলাকার মোঃ হাজী মোতাবেক খান (পিতা: মৃত জমির উদ্দিন খান) এবং মোঃ সামেদ আলী নামের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় নদীপথে একটি সশস্ত্র নৌ সন্ত্রাসী দল গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বাহিনীর হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে কয়েকজন সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রয়েছে—
# মোঃ সানি (পিতা: বাদল ব্যাপারী), প্রতাবনগর ১নং ওয়ার্ড
# অলী মিয়া (পিতা: সূজা), প্রতাবনগর ১নং ওয়ার্ড
# বিল্লাল সিপাই (পিতা: ছেলেম সিপাই), উত্তর গোপালনগর ৩নং ওয়ার্ড
# মোঃ দেলোয়ার (পিতা: হোসেন কোম্পানী), প্রতাবনগর ১নং ওয়ার্ড
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চক্রটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)-এর কোনো অনুমতি ছাড়াই ভূয়া রশিদ ও কার্ড ব্যবহার করে “বার্থিং চার্জ” ও সংগঠনের চাঁদা নামে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। অনেক সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌযান আটকে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে এসব ভূয়া রশিদ ও কার্ড ছাপানো হয়। ওই দোকানের মালিক মোঃ খোকন, যার দোকান ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার বনানী হলের পাশে। তার মোবাইল নম্বরও স্থানীয়দের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই চাঁদাবাজি নতুন নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত একই চক্র নদীপথে দাপটের সঙ্গে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বক্তাবলি নৌ ফাঁড়ির কিছু অসাধু সদস্যের মদদ ও অর্থের বিনিময়ে এই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নৌ শ্রমিক ও স্থানীয়রা দ্রুত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং নদীপথে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দেশের গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।








Discussion about this post