নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে পদায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলন।
সংগঠনটি সরকারের কাছে ওই কর্মকর্তাকে নাসিকে পদায়ন না করার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে সংগঠনটির আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতির নানা অভিযোগে আলোচিত প্রকৌশলী মো. খাইরুল বাকেরকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা-২ এর যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খাইরুল বাকেরকে প্রেষণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ একই পদে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
তবে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, খাইরুল বাকের এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এ দায়িত্ব পালনকালে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
পরে তাঁকে প্রেষণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বদলি করা হলেও সেখানেও তাঁকে গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের দাবি, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে খাইরুল বাকেরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৬০০ কোটি টাকা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কোনো কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলে নগর উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা ওই কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পদায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নাসিক প্রশাসকের কাছেও তাঁকে গ্রহণ না করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের আগে অভিযোগগুলো তদন্ত করা জরুরি।
খাইরুল বাকের
আমলনামা:
খাইরুল বাকেরের নামে বেনামে রয়েছে অত্যন্ত ৬০০ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি! স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি খাইরুল বাকের আনুমানিক ১৫০০ শত কোটি টাকার মালিক। নিকট আত্মীয় সিন্ডিকেট করে ৫ ভাই, ২ ছেলে ও স্ত্রী, জেবুন নাহারের নামে ঢাকা এবং নরসিংদী-সহ রয়েছে অন্তত ১৩ টা বাড়ী ও ৬০০ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ!
৫-ই আগস্টের পূর্বে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে একাধিক পোস্ট ও কমেন্ট করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র আন্দোলনকে বিতর্কিত ও প্রতিহত করার চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি এই খাইরুল বাকের।
খাইরুল বাকের ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তারা ৬ ভাই। তার বাবা মিন্নত আলী ছিলেন নৌকার মাঝি, তার বাবা খেয়া পারাপার সহ কুলির কাজও করেছেন। দিন এনে দিন খাওয়া এই খাইরুল বাকের ২০০১ সালে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হিসাবে যোগদান করার পর থেকে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পায়। তার পর থেকেই তার স্ত্রী ও পাঁচ ভাইদের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হতে থাকে।
খাইরুল বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৫ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দিতেন।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে খাইরুল বাকের ছিলেন, নরসিংদী বেলাবো- মনোহরদী উপজেলার আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা। স্বৈরাচার সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে ছিলো তার ঘনিষ্ঠতা। সাবেক এই মন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় খাইরুল বাকের অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করারও অভিযোগ উঠে। খাইরুল বাকের বেলাবো ও মনোহরদী উপজেলার আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা হিসেবেও বেশ পরিচিত।
ছাত্রজীবনে খাইরুল বাকের চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) শহীদ তারেক হুদা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে (চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এই আওয়ামী দোসর ও দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ৫ই আগস্টের পরেও রয়েছে স্বপদে বহাল। এখন আবার ভোল পাল্টে অন্য দলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে পদোন্নতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার ধান্দা করছে!
এসব ডাকাতদের চেয়ারে বসিয়ে রেখে কিভাবে সংস্কার সম্ভব?









Discussion about this post