নগর প্রতিনিধি :
ফতুল্লার নরসিংপুরে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করলো—মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক কেবল বিস্তৃতই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
নরসিংপুরে ‘কাউন্টার’ সংস্কৃতি : মাদক বিক্রির ভয়ংকর দুঃসাহস
ফতুল্লার নরসিংপুর এলাকায় প্রকাশ্যে ‘সিনেমার কাউন্টার’-এর মতো করে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বহিঃপ্রকাশ। কমপক্ষে ৩০/৪০ জন যুবকে হাতে নানা ধরনের অস্ত্র দিয়ে পাহাড়া বাসিয়ে এমন মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে সানি ও তার ভাই । একই সাথে পুলিশ টহলে যাওয়ার পর প্রতিনিয়ত এই সানী পুলিশের হাতে উৎকোচ দিয়ে খোসগল্প করতে দেখে এলাকাবাসী থাকেন আতংকে । আর পুলিশের সাথে এমন সখ্যতা থাকায় কেউ টু-শব্দ করতে সাহসও করেন না ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দিনের পর দিন এমন প্রকাশ্য বেচাকেনা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি—যা প্রশাসনের ভূমিকাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
অভিযান, গ্রেফতার—তবুও অধরা মূল হোতা
র্যাব-১১ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১২ জন গ্রেফতার এবং বিপুল মাদক উদ্ধার নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে মূল হোতা সানীর পালিয়ে যাওয়া পুরো অভিযানের সফলতাকে আংশিক করে দিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয়—স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে সে পালিয়ে যায়। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কেবল দায়িত্বে অবহেলা নয়, বরং অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশের গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়া : অপরাধের ‘সেফ জোন’?
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মদদেই সানীর মতো মাদক ব্যবসায়ীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীদের ‘অপ্রতিরোধ্য’ হয়ে ওঠার সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে এটি যখন জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়, তখন তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
একদিকে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার, অন্যদিকে মূল হোতার রহস্যজনক পলায়ন—এই দ্বৈত চিত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। জনগণের প্রশ্ন, যদি আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে থাকে, তবে এর দায় কে নেবে ? সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কি কোনো তদন্ত হবে ?
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
প্রতিদিন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, কিশোর-যুবকদের জড়িয়ে পড়া, এবং অপরাধীদের দাপট—সব মিলিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে নরসিংপুর শিগগিরই মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
প্রশ্ন এখন রাষ্ট্রের কাছে
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মাদকবিরোধী অভিযানের বাস্তব কার্যকারিতা কতটুকু ? যদি মূল হোতারা বারবার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তবে ছোটখাটো গ্রেফতার কি আদৌ সমস্যার সমাধান দিতে পারবে ?
সমাধানের পথ কী ?
# মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরের দুর্নীতি ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত
# রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান নিশ্চিত করা
# স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা
শেষ কথা
নরসিংপুরের এই ঘটনা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা মাদক সিন্ডিকেটের ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এখনই যদি কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়ে সমাজের ভিতকেই নড়বড়ে করে দেবে।









Discussion about this post