স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় গৃহবধূ সাবরিয়া আক্তার অনিয়ার (৩০) মৃত্যু যেন এক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ?
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত অনিয়া স্থানীয় মৃত নিজাম উদ্দিনের মেয়ে এবং সায়েম সিমেলের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একদিকে অনিয়ার পরিবারের দাবি—এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের শিকার হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে ছিলেন অনিয়া। সর্বশেষ বাপের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা ঘটনার সূত্রপাত বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে স্বামীর পরিবারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তাদের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে অনিয়া নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তারা এটিকে একটি দুঃখজনক কিন্তু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।”
এদিকে, এই মৃত্যু ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন একটাই—সাবরিয়া আক্তার অনিয়ার মৃত্যু কি নিছকই আত্মহত্যা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে নির্যাতন আর সহিংসতার এক নির্মম গল্প ?
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যাচ্ছে।









Discussion about this post