নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শুভ নামের এক যুবককে ডেকে এনে গুমের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরিবারের আশংকা দ্রুত তাকে উদ্ধার করা না হলে হয়তো অঘটন ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নিখোঁজ শুভর (২১) মা মাকসুদা বেগম (৩৯) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী) (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩), লাল শুভ (২০)। মামলায় আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আসামি সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে সন্ধ্যায় শাকিল তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন আসামি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এপাচি মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর থেকে শুভ নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুভর মা মাকসুদা বেগম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছে এবং আসামিরা তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। নিখোঁজ ব্যাক্তিকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।









Discussion about this post