নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আজ ৬ এপ্রিল সোমবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
মেডিস্টার হাসপাতাল ও রেনেসা ল্যাবে অভিযান
সদরের নবাব সলিমুল্লাহ রোড এলাকায় অবস্থিত মেডিস্টার হাসপাতাল ও রেনেসা ল্যাবে অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানে দেখা যায়—
# সেবার মূল্য তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি
# নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ফি আদায় করা হচ্ছিল
# অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও পোস্ট-ওটি রুমে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি
# প্রয়োজনীয় স্টেরিলাইজেশন ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল
# প্যাথোলজিস্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডিপ্লোমা নার্সদের যোগ্যতার প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি
# রোগীর তুলনায় নার্স ও স্টাফের সংখ্যা ছিল অপর্যাপ্ত
এসব অনিয়মের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম
শহরের বি.বি. রোড এলাকায় অবস্থিত পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়—
# প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স নেই
# সেবার কোনো নির্ধারিত মূল্য তালিকা নেই
# ইচ্ছেমতো ফি নির্ধারণ করা হচ্ছিল
# প্রশিক্ষিত প্যাথোলজিস্ট বা ল্যাব
# টেকনিশিয়ান ছাড়াই সাধারণ কর্মচারীদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছিল
এসব অপরাধে মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি
অভিযানকালে র্যাব-১১, পুলিশ এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা. শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের বার্তা
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।









Discussion about this post