নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ যেন আবার ফিরে যাচ্ছে সেই অন্ধকার সময়ের দিকে—যেখানে গুম, খুন আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পরও বিচার না হওয়া, আর ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মাহফুজুর রহমান শুভর গুম ও হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি দীর্ঘ এক যুগ ধরে প্রতি মাসের ৮ তারিখে মোমবাতি জ্বালিয়ে ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন।
কিন্তু অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় বিচার আজও অধরাই। পরিবার ও সচেতন মহলের অভিযোগ—প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা পড়ে আছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানুষ যখন ন্যায়বিচারের আশায় বুক বাঁধছিল, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় আসে শুভ হত্যাকাণ্ড।
ফতুল্লার ইসদাইর থেকে অপহরণের পর কয়েকদিনের মধ্যে রূপগঞ্জ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এসেছে নিহত শুভর মা মাকসুদা বেগমের কাছ থেকে।
তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, তার ছেলেকে ক্রসফায়ারে নিহত ডেবিডের ভাগিনা নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রান পরিকল্পিতভাবে গুম করে নির্যাতন শেষে হত্যা করা হয়েছে এবং এতে জড়িত রানার সন্ত্রাসী চক্র। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেন—
“পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে।”
এই অভিযোগ এখন পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রশ্ন উঠছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি সত্যিই নিরপেক্ষ ?
নাকি আবারও প্রভাবশালীদের ইশারায় কাজ করছে ?
স্থানীয়দের মতে, অতীতে যেমন ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে গুম-খুনের অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমানেও ঠিক একই ধাঁচের ঘটনা ঘটছে।
তখন শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠত লাশ, আর এখনো সেই একই আতঙ্ক ফিরে আসছে—এমনটাই বলছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন,
# বিচারহীনতার সংস্কৃতি যদি চলতেই থাকে,
# অপরাধীরা যদি বারবার পার পেয়ে যায়,
আর প্রশাসন যদি নিরব বা পক্ষপাতদুষ্ট থাকে—
তাহলে নারায়ণগঞ্জ আবারও “গুমের নগরী”তে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
👉 ত্বকীর বিচার কি আদৌ হবে?
👉 শুভ হত্যার সঠিক বিচার কি নিশ্চিত করা যাবে?
👉 নাকি আবারও প্রভাবশালীদের ছায়ায় চাপা পড়ে যাবে সব সত্য ?
নগরবাসীর একটাই দাবি—
দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
না হলে “গুম-খুনের রাজত্ব” আবারও স্থায়ী রূপ নেবে, আর সাধারণ মানুষ থাকবে চিরস্থায়ী









Discussion about this post