স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে আবারও অন্ধকারের ছায়া ঘনিয়ে আসছে—এমনই কঠোর ও উদ্বেগজনক বার্তা দিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
তার বক্তব্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ বাস্তবতা—শিশু-কিশোরদের অপহরণ, খুন, আর নারায়ণগঞ্জকে পুনরায় “লাশের ড্যাম্পিং পয়েন্ট” বানানোর অভিযোগ।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোকপ্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির কথা তুলে ধরেন। শুভ নামে এক কিশোরকে অপহরণের পর হত্যা করে রূপগঞ্জে লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, “এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বড় একটি অশনি সংকেত।”
তার ভাষায়, নারায়ণগঞ্জে পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে, আর একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জেলা আবারও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, “চোখের সামনে এত কিছু ঘটছে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ কোথায় ?”
রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও ছিল তার কঠোর প্রশ্ন। নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি—কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সব নীরব। নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—“সংসদে দাঁড়িয়ে কি কখনো ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছেন? একটা নোটিশ দিয়েছেন ?”
ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীরবতা কেবল ব্যর্থতা নয়, বরং এক ধরনের উদাসীনতা, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
“বিচার হবে না—এই মনোভাব যদি থাকে, তাহলে সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ?”—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
র্যাবের ভূমিকাও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তার বক্তব্যে।
স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “যদি না পারেন, দায়িত্ব ছেড়ে দিন। কিন্তু না করে ধরে রাখার মানে আইনের শাসনকে ব্যঙ্গ করা।”
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিভিন্ন সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ কোথায় ? কেন এখনো দৃশ্যমান কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি ?
শেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ইতিহাস কখনো কাউকে ক্ষমা করে না। আজ আমরা রাজপথে আছি, কাল জনগণই জবাব চাইবে।”
এই বক্তব্য শুধু একটি প্রতিবাদ নয়—এটি নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা, যেখানে অব্যবস্থাপনা, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক নীরবতা মিলেই তৈরি করছে এক অনিশ্চিত ও আতঙ্কিত জনপদ।









Discussion about this post