স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে সেকেন্ড অফিসার মিলন চন্দ্রের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফরিদপুরের সালথায় আরেক পুলিশ কর্মকর্তার ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
একের পর এক এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—আইন রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে কী চলছে ?
নারায়ণগঞ্জের ভাঙ্গা থানা এলাকায় এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে আটক হওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে ছাড় পেয়ে যান সেকেন্ড অফিসার মিলন চন্দ্র।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে দ্রুত সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গভীর রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বলিভদ্রদিয়া গ্রামে ঘটে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হাসানকে মাদক মামলার এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা।
পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমরান হাসান নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং এক পর্যায়ে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গভীর রাতে সাদা পোশাকে, কোনো সহকর্মী ছাড়াই ওই বাড়িতে প্রবেশ করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, পুলিশের পোশাকবিহীন অবস্থায় মারধরের শিকার ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় কাকুতি-মিনতি করছেন। এমনকি তার কাছ থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রি পাওয়ার দাবিও করেন স্থানীয়রা—যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত এএসআই দাবি করেছেন, তিনি মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়েছিলেন। তবে গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সালথা থানার ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন বারবার একই ধরনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা? কেনই বা অভিযোগ উঠলেই তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় ?
মিলন চন্দ্রের ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ যেমন ক্ষোভ বাড়িয়েছে, তেমনি ইমরান কাণ্ডে আবারও সেই পুরনো চিত্রই যেন সামনে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং দায়মুক্তির সংস্কৃতির ফল। কঠোর জবাবদিহিতা ও দৃশ্যমান শাস্তি ছাড়া এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এখন দেখার বিষয়—এবারও কি আগের মতোই ধামাচাপা পড়বে, নাকি সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন ?









Discussion about this post