নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কলাতলী গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হারুন মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি এলাকায় ‘মাদক ও কিশোর গ্যাং সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত।
ঘটনায় ভুক্তভোগী রেনু বেগম (৩৮) মামলা দায়ের করলেও এখনো অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আজিজুল ইসলামের স্ত্রী রেনু বেগমের কাছে মনির নামের এক ব্যক্তির পাওনা ৩২ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকার জিম্মাদার হন হারুন মিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, কৌশলে ওই টাকা নিজের দখলে নেন তিনি। পরে রেনু বেগম টাকা ফেরত চাইলে হারুন তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
এ ঘটনায় রেনু বেগম স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ার চেষ্টা করলে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে হারুন ও তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে হারুনের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য লোহার রড দিয়ে রেনু বেগমের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন; তার মাথা ও নাক রক্তাক্ত জখম হয়।
স্থানীয় এক মুদি দোকানদারসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ—হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শোনা গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গোপন সূত্রে জানা যায়, অতীতে তিনি মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা, টেকনাফ এলাকায় জিম্মি করে নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এখনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনলে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বাড়বে।









Discussion about this post