নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সম্পত্তি দখলচেষ্টা, হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন তাসনুভা জাহান পারুল (২৮) নামে এক কলেজছাত্রী।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার পিতা মো. মোস্তফা দীর্ঘদিন আগে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে তার মা সীমা আক্তারকে তালাক দেন।
তখন পারুলের বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর এবং তার ছোট বোন তাবাসুম জাহান শাহনাজের বয়স ছিল ২ বছর।
তালাকের পর তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান এবং এরপর আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি। পিতা একাই দুই বোনকে লালন-পালন করে বড় করেন।
পারুল জানান, পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন তাদের মা একাধিক বিয়ে করেছেন। পরিবারের কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় ২০২২ সালে তাদের পিতা তার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দুই মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে তারা বৈধভাবে সম্পত্তি ভোগদখলে রয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাদের পরিবার নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তালাকপ্রাপ্ত মা সীমা আক্তার স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ সময় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নারীকে আটক করে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তিনি ভবিষ্যতে আর হয়রানি করবেন না মর্মে অঙ্গীকার দিয়ে মুক্তি পান।
কিন্তু চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পুনরায় একই নারী সন্ত্রাসী সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন পারুল।
তিনি দাবি করেন, এ সময় জরুরি নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টো ওই নারীকে বাড়িতে প্রবেশে সহায়তা করে। বাধা দিলে পুলিশ কর্মকর্তা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে পারুল বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে উল্লেখ করে জানান, তার ছোট বোন, অসুস্থ পিতা ও বৃদ্ধ দাদী ওই নারীর জিম্মায় গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আবেদনে তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের মদদে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে এবং যেকোনো সময় তাদের পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে।
এ অবস্থায় পারুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।









Discussion about this post