স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার যেন প্রকাশ্যেই উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও ছয়জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে সরকারি সভায় অংশ নিয়েছেন—যা শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং পুরো বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননা।
বুধবার (৬ মে) উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় তাদের সরব উপস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার বাইরে অবস্থান করলেও পরে তারা নির্বিঘ্নে মূল সভায় ঢুকে অংশ নেন।
প্রায় দুই বছর পলাতক থাকার পর হঠাৎ করে এভাবে প্রকাশ্যে সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যানরা হলেন—হাইজাদীর আলী হোসেন, বিশনন্দীর সিরাজুল ইসলাম, উচিতপুরার ইসমাইল হোসেন, খাগকান্দার আরিফুল ইসলাম, মাহমুদপুরের আমান উল্লাহ আমান এবং কালাপাহাড়িয়ার ফয়জুল হক ডালিম। তাদের প্রত্যেকেই আড়াইহাজারের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের কোনো জামিন নেই।
অর্থাৎ তারা আইন অনুযায়ী পলাতক আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনকি সরকারি সভায় অংশ নিচ্ছেন।
এটি কেবল আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়, বরং প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
উপজেলায় মোট ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে এই ৬টি ইউনিয়নে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানরা বহাল রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ই এখন দায়মুক্তির ঢাল ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামিরা যেখানে আইনের আওতায় থাকার কথা, সেখানে তারা প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে এবং নীতিনির্ধারণী সভায় অংশ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। এতে বিচার প্রক্রিয়া শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেছেন, অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—যা পরিস্থিতির গুরুত্বের তুলনায় অত্যন্ত দায়সারা বক্তব্য বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে, আড়াইহাজার থানার ওসি আলাউদ্দিনের বক্তব্য—“ওয়ারেন্টভুক্ত কেউ সভায় ছিল বলে জানা নেই”—প্রশাসনের তথ্যঘাটতি নাকি ইচ্ছাকৃত অজ্ঞতা, সেই প্রশ্নও এখন জোরালো।
সব মিলিয়ে আড়াইহাজারের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—আইনের শাসন যখন দুর্বল হয়, তখন অপরাধীরাই হয়ে ওঠে প্রভাবশালী, আর ন্যায়বিচার হয়ে পড়ে নিছক কাগুজে শব্দ।
দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অনিয়মের পথ খুলে দেবে—এমন আশঙ্কাই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।









Discussion about this post