স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে বাবার পর একে একে মারা গেছে তিন ভাইবোন।
বর্তমানে তাদের মা সালমা আক্তার (৩২) গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুন্নি (৭)।
এর আগে একইদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যায় তার ভাই মুন্না (১২)। এর আগের দিন বুধবার (১৩ মে) মারা যায় ছোট বোন কথা (৪)।
আর গত সোমবার (১১ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পরিবারের কর্তা, সবজিবিক্রেতা মো. আবুল কালাম (৩৫)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, মুন্নির শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। অপরদিকে, সালমা আক্তারের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার গ্রামবাংলা টাওয়ারের সামনে একটি বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে দগ্ধ হন আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা আক্তার এবং তাদের তিন সন্তান—মুন্না, কথা ও মুন্নি।
দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে যান।
ঘরের ভেতর আগুন জ্বলতে দেখে তারা দ্রুত পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
পরিবারের স্বজনদের ধারণা, গ্যাস লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত।
নিহত আবুল কালামের ভাই মো. রাজীব জানান, ঘটনার দিন সকালে আবুল কালাম আড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খাবার গরম করতে গিয়ে রান্নাঘরে দিয়াশলাই জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তাদের ধারণা, আগে থেকেই রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল।
উল্লেখ্য, নিহতদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বালুকদিয়ে গ্রামে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং লিকেজ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।









Discussion about this post