স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পৃথক আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
কয়েকদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে একে একে নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ, শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার বিস্ফোরণে দগ্ধ সায়মা (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
একই দিনে কুতুবপুরের লাকিবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আব্দুল কাদের (৫০) সকালে এবং তার ছেলে রাকিব (১৬) দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে গিরিধারা এলাকার নিহতরা হলেন—মো. কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং তাদের তিন সন্তান মুন্নি (১০), মুন্না (৭) ও কথা। এই পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে কুতুবপুরের ঘটনায় নিহত হন আব্দুল কাদের ও তার ছেলে রাকিব।
রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত ১০ মে সকালে গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে গত সোমবার সকালে পরিবারের কর্তা মো. কালাম মারা যান, যার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় শিশু কথা, যার শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা যায় সাত বছরের মুন্না এবং তিন ঘণ্টা পর বড় বোন মুন্নিও মৃত্যুবরণ করে। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মারা যান মা সায়মা।
অন্যদিকে, কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বাবা ও ছেলে মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ফ্ল্যাটের ভেতরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ফতুল্লার গিরিধারা ও কুতুবপুরের লাকিবাজার এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় মোট ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post