আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়ায় এক নারী আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি নারী সহকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা আইন অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে টিপু বলেন, আদালতপাড়ায় “কয়েকজন নর্তকী রয়েছে” যারা আইন পেশায় মনোযোগী নয়—এমন মন্তব্য করে তিনি নারী আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই নারী বিদ্বেষমূলক ও পেশার অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার নারী আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী অভিযোগ করেন, আদালত এলাকায় এক হকারকে কেন্দ্র করে টিপু ও তার সহযোগী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি তাকে ঘুষি মারার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিপু।
টিপুর দাবি, তিনি কাউকে মারধর করেননি, বরং “ধমক” দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন এবং তাকে গালিগালাজ করেছেন।
এদিকে, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী আইনজীবীদের নিয়ে টিপুর মন্তব্যকে অনেকেই অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।
অনেকে বলছেন, এমন বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং পুরো আইন পেশার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন টিপু।
তার অভিযোগ, কিছু স্থানীয় পত্রিকা ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করছে।
আইনজীবী সমাজের একাধিক সদস্য মনে করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে আদালতপাড়ায় পেশাগত পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে নারী আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।









Discussion about this post