তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ দাবি: নারী আইনজীবীদের অপমানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নারী আইনজীবীদের নিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর আপত্তিকর কর্মকাণ্ড ও অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন।
তিনি এ ঘটনায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় বিষয়টি দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেন।
আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এক নারী আইনজীবীর ওপর হামলা এবং নারী আইনজীবীদের উদ্দেশে ‘নর্তকী’ বলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বাঁধন এ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ভাষা কোনো সভ্য সমাজ তো দূরের কথা, সাধারণ রিকশাচালকরাও ব্যবহার করে না। একজন আইনজীবী হয়ে নারী সহকর্মীদের এভাবে অপমান করা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং চরম লজ্জাজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
বাঁধন আরও বলেন, “আমরা আইনজীবীরা মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করি। অথচ আজ আমাদেরই নারী সহকর্মীদের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
“এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আইনজীবী সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। আমরা চুপ করে বসে থাকার মানুষ নই।”
এসময় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বারের দায়িত্বশীলদের উচিত অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
একইসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাঁধন বলেন, “দেশ ও দলের প্রধান তারেক রহমানের কাছে আমাদের জোর দাবি—এই ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি নারীদের অপমান করে, তাহলে তা পুরো দলের জন্যই কলঙ্কজনক।”
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু নারী আইনজীবীদের ‘নর্তকী’ ও ‘পুরুষখেকো’ বলে কটূক্তি করেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এক নারী আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
আইনজীবী সমাজের মতে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পেশাজীবীদের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।









Discussion about this post