রনির ছায়ায় সহিংসতা—দলীয় কর্মসূচিতেই প্রবীণ বিএনপি নেতার ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা যেন ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কের মাঝেই এবার প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় কর্মসূচিতে বিএনপির এক প্রবীণ নেতার ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি—যেখানে রক্তদান, বৃক্ষমেলা, বইমেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছিল—সেই শান্ত পরিবেশই মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, রনির উপস্থিতিতেই তার অনুসারীরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সামান্য বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সেটিই ছিল ঝড়ের আগের নীরবতা।
কিছুক্ষণ পর, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের সময় পরিকল্পিতভাবে অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। কিল-ঘুষিতে তাকে রক্তাক্ত করা হয়, ঠোঁট ফেটে যায়, এমনকি তার পরনের জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়—যা শুধু একটি ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নগ্ন অবমাননা।
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন ভূইয়া অভিযোগ করে বলেন, “তর্কবিতর্ক হলেও বিষয়টি মিটে গিয়েছিল। কিন্তু পরে রনির অনুসারীরাই আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।”
তার এই বক্তব্য ঘটনায় পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল নয়—এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। রনির বিরুদ্ধে এর আগেও গুলি চালানো, ঝুট সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দলীয় সিনিয়র নেতার ওপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মশিউর রহমান রনি ফোন রিসিভ করেননি—যা তার নীরবতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে এমন সহিংসতা শুধু সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে না, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দেয়। এখন প্রশ্ন উঠেছে—দল কি এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেবে, নাকি আবারও বিতর্ক চাপা পড়ে যাবে ?
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, “দলীয় কর্মসূচি” নামের আড়ালে এমন সহিংসতা আরও বাড়বে—এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।









Discussion about this post