নগর প্রতিনিধি :
প্রতিদিনের মতোই কর্মস্থলে যাওয়ার তাড়াহুড়ো। সংসারের দায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর জীবিকার টানে সকালেই বের হয়েছিলেন মানসুরা (২৫)।
কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ গন্তব্য।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ হারালেন এই নারী পোশাক শ্রমিক।
আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতোই কাজের উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মানসুরা। ঠিক সেই মুহূর্তে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি—ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মানসুরার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামে। পিতা সেলিম মাদবরের মেয়ে তিনি। বর্তমানে স্বামী ইমন ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড়ের মাহমুদপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।
তার স্বামী জীবিকা নির্বাহ করেন একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে। নিম্নআয়ের এই পরিবারটির একমাত্র ভরসা ছিলেন মানসুরা নিজেই।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল। চার বছরের শিশুটি হারালো তার মায়ের স্নেহ, আর স্বামী হারালেন জীবনের সহযাত্রীকে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং চালককে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নগর জীবনের ব্যস্ত সড়ক যেন প্রতিনিয়তই হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ।
নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন, অসচেতনতা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে। মানসুরার মতো আরও কত জীবন এভাবে ঝরে পড়বে, সেই উত্তরই যেন খুঁজে ফিরছে নগরবাসী।









Discussion about this post