নগর প্রতিনিধি :
ফতুল্লায় পুত্র হত্যার ন্যায়বিচার চাওয়ার ‘অপরাধে’ আবারও রক্ত ঝরল পিতার।
আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বাবা ওমর খৈয়ামকে এবার প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগ উঠেছে—মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং বিচার ব্যবস্থাকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় ঘটে এই নৃশংস ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোরকা পরিহিত প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ সাত থেকে আটজন মুখোশধারী সহযোগী নিয়ে ওমর খৈয়ামের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপর কোনো কথা না বাড়িয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় যখন পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে।
তখন হামলাকারীরা আতঙ্ক ছড়াতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
প্রশ্ন উঠেছে—একজন চিহ্নিত আসামি কীভাবে এমন দুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে বারবার পালিয়ে যাচ্ছে ?
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে জাহিদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। সেই থেকেই শুরু হয় হুমকি-ধমকি। মামলা তুলে নিতে না চাওয়ার ‘দুঃসাহস’-এর জেরেই এবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয়দের ভাষ্য আরও উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, অভিযুক্ত জাহিদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি। শুধু তাই নয়, র্যাবের অভিযানে বাধা দেওয়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো, এমনকি পুলিশের এক উপপরিদর্শককে ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অথচ এমন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে!
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম স্বীকার করেছেন, জাহিদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, কিন্তু তিনি বিভিন্ন সময় বোরকা পরে আত্মগোপনে থাকায় তাকে ধরা যাচ্ছে না। প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবল ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো দুর্বলতা বা অদৃশ্য প্রভাব ?
এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—একটি হত্যার বিচার চাওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, বাড়িতে ঢুকে হামলা, গুলি ছুড়ে পালানো—এসব শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।
ফতুল্লার মানুষ আজ জানতে চায়—কতদিন এভাবে সন্ত্রাসীরা বোরকার আড়ালে ঘুরে বেড়াবে? কতদিন বাদীরাই হবে হামলার শিকার ? আর কতদিন আইন শুধু কাগজেই থাকবে ?
ন্যায়বিচার যদি নিশ্চিত না হয়, তবে এই রক্তের দায় কার—এ প্রশ্ন এখন সময়ের।









Discussion about this post