রূপগঞ্জের একটি মসজিদ কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে অংকন নামের একজন ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শুক্কুর আলী মোল্লা ও তার লোকজন।
শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মিঠাবো এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত অংকন উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এমন ঘটনায় বলেন, মিঠাবো জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে গত ৩ সপ্তাহ যাবৎ আগের কমিটির লোকজনকে জোরপূর্বক বল প্রয়োগ করে আসছিল এই এলাকার শুক্কুর আলী মোল্লা নামের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
সমাজের লোকজনের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলে আসছে। এদিকে গত শুক্রবার২১ ফেব্রুয়ারী জুমার নামাযের পর নিজেকে সভাপতি হিসেবে ঘোষনা দেন শুক্কুর আলী মোল্লা। শুক্কুর আলী মোল্লা ও তার লোকজনের সাথে সমাজের লোকজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক ও মারমূখী অবস্থানের ঘটনাও ঘটে।
এরপর শুক্কুর আলী মোল্লা ১০/১২ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের কোন সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগটি আমলে নেয় নাই পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন শুক্কুর আলী মোল্লা।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযের পর শুক্কুর আলী মোল্লাকে মামলার কারন জানতে চাইলে সে সহ তার ভাই শাহাদাত হোসেন মোল্লা, ছেলে সনেট মোল্লা, সজল মোল্লা, সানী মোল্লাসহ তাদের লোকজনের সাথে সমাজের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি ঘটনা ঘটে।
কাটাকাটি ও হাতাহাতির পর বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে শুক্কুর আলীসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মিঠাবো এলাকার রুমানের বাড়ী ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে। এ বিষয়ে ভুলতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ছাত্র দলের সভাপতি অংকন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
একই সময় অংকনকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা অংকনের চাচা ভুলতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, রুমান ও সৈকতকে পিটিয়ে আহত করে।
আহত অংকনকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।
খবর পেয়ে পু্লশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আর আহত অংকনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে শুক্কুল আলী মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোন গণমাধ্যম কর্মীর ফোন তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
রূপগঞ্জ থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, সভাপতির পদ নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।









Discussion about this post