নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার ষোলপাড়া এলাকায় ক্রয় করার জন্য জমি দেখতে এসে মো. জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যবসায়ী অপহরণের শিকার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়।
এপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরদিন ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আজ মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ কামাল হোসেন নামে অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে।
সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বড় রায়পাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কনফেকশনারী ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম সোনারগাঁ পৌরসভার ষোলপাড়া এলাকায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্রয় করার জন্য জমি দেখতে আসেন। এ সময় উত্তর ষোলপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে আক্তার হোসেন, আবুল হোসেন, সোহেল, রবি, নিরব, কামালসহ ১২-১৫ জনের একটি বাহিনী জাহাঙ্গীর আলমের মাথায় ও চোখে গামছা পেঁচিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এসে সেখানে তাকে মারধরের একে পর্যায়ে গোপনাঙ্গে লাথি দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে তার জ্ঞান ফিরে এলে তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দেওয়া হলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীর আত্মীয়স্বজন স্থানীয় দুটি বিকাশের দোকানের নম্বর থেকে এক লাখ এক হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে পাঠানোর পর তার সঙ্গে থাকা ৩৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে মেঘনা ব্রিজ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি একজন কনফেকশনারী ব্যবসায়ী। সোনারগাঁ পৌরসভার ষোলপাড়া এলাকায় জমি দেখতে এসে তিনি অপহরণের শিকার হন তিনি । অফহরণকারীরা পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। পরে এক লাখ ৩৭ হাজার টাকায় তিনি মুক্ত হয়ে অভিযোগ করেন, অপহৃতরা তাকে মারধর করেছে।
১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করলেও সোনারগাঁ থানা পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামাল হোসেন নামের এক অপহরণকারী চক্রের সদস্যকে আটক করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েক দিন পরপরই জাহাঙ্গীর আলম আমাদের এলাকায় নারী নিয়ে আসেন । এলাকার কয়েকজন তাকে নারীসহ ধরে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এমন ঘটনায় সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ইমরাম উজ্জামান জানান, দুই দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। সেখানে নারীঘটিত ঘটনায় ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। যারা ওই ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন তারা তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নিয়েছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাদী মামলা করতে না চাইলে কিভাবে মামলা নেবো।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিকবার তদন্ত করেছে। কামাল হোসেন নামে এক অপহরণকারীকে পুলিশ আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তা ।









Discussion about this post