নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী—এ কারণে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য দুলাল হোসেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশেষ করে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি দলীয় কৌশলে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ রাজনীতি করলে সেটি সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”
বহিষ্কারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় প্রার্থী বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের লড়াই এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব—সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।








Discussion about this post