নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আবারও রক্ত ঝরল।
সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার দুই দিন পর সাব্বির (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত সাব্বির ফতুল্লা মডেল থানার পিঠালিপুল পূর্ব লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ইস্রাফিলের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে সাব্বিরের বাবা ইস্রাফিলকেও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই পরিণতি হলো ছেলেরও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাব্বিরের সঙ্গে এলাকার সোহাগ গ্রুপের সদস্যদের মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সোহাগ গ্রুপের হামলায় সাব্বির গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় সাব্বিরের ভাই তানভীর আহম্মেদ বাদী হয়ে সোহাগ, খোকন, রাব্বিসহ সাতজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত তিনটার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবু মার্কেট এলাকায় গেলে ওত পেতে থাকা সোহাগ গ্রুপের সদস্যরা সাব্বিরের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সাব্বিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।








Discussion about this post