নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত: বাড়ছে ‘জনতার বিচার’?
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আজ রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সকালবেলা তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় এসে এক পথচারীকে আটকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তিনজনকে ধাওয়া দেন। এ সময় দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজন স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন।
ধরা পড়া ওই যুবককে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটিও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারেক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তার আগেই জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জালকুড়ি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও ছোটখাটো অপরাধের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা ও গভীর রাতে পথচারী ও কর্মজীবী মানুষের ওপর ছিনতাইয়ের চেষ্টা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই।
তবে আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। এতে অনেক সময় নিরপরাধ ব্যক্তিও গণপিটুনির শিকার হতে পারেন।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি বা গুজবের ঘটনায় গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আস্থাহীনতা তৈরি হলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে।
এদিকে জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকার সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও সেই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—অপরাধ দমনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে কি ‘জনতার বিচার’ আরও বাড়বে ?
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া দুই যুবককেও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।









Discussion about this post