স্টাফ রিপোর্টার :
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসের সূচনা হবে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে।
একই সময়ে চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি প্রদান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা।
সকাল ৮টায় ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস ও গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রদর্শনীর সাক্ষী হবে নগরবাসী।
সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এ সময় তাদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হবে।
দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য জেলার সব সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে, যা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে সহায়ক হবে।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমে বিশেষ খাবার পরিবেশনের আয়োজন রাখা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে জেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে প্রীতি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচও আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।









Discussion about this post