নিজস্ব প্রতিবেদন :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ চুন কারখানার বেপরোয়া বিস্তার এবার সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযানের খবর পেয়ে জ্বলন্ত চুন দ্রুত সরাতে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাকে আগুন লাগার ঘটনা যেন পুরো চিত্রটিই উন্মোচন করে দিয়েছে—এখানে চলছে ভয়ংকর অব্যবস্থাপনা, আর প্রশাসন যেন নীরব দর্শক।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবৈধভাবে চুন বহনকারী একটি ট্রাক ঢাকামুখী লেনে ওঠার পর হঠাৎ আগুনে জ্বলে ওঠে। ট্রাকে থাকা লোকজন দ্রুত পালিয়ে যায়, আর স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে—তবে এর আগেই পুড়ে যায় বিপুল পরিমাণ চুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনারগাঁয়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ চুন কারখানা, যা পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অজ্ঞতার দাবি যেন আরও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা জানান, “ট্রাকে আগুন ধরার বিষয়ে আমরা অবগত নই”—এই বক্তব্যই প্রমাণ করে দায়িত্বে কতটা গাফিলতি রয়েছে।
মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ড, অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানেই না—এটা কি অবহেলা, নাকি ইচ্ছাকৃত নীরবতা ?
এদিকে স্থানীয়দের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ—সোনারগাঁয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের রমরমা ব্যবসা। তিতাস গ্যাসের মূল লাইনের সঙ্গে বেআইনিভাবে সংযোগ নিয়ে চালানো হচ্ছে চুন কারখানা। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশ হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই।
প্রশ্ন উঠছে—কার ইশারায় চলছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য ? কেন প্রশাসন বারবার চোখ বন্ধ করে আছে ? মহাসড়কের বুকে আগুন জ্বললেও যদি দায়িত্বশীলরা “কিছু জানি না” বলে পাশ কাটিয়ে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়াবে ?
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার জ্বলন্ত প্রমাণ।
এখন সময় এসেছে দায় এড়ানোর নয়—কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এই অবৈধ চক্র ভেঙে ফেলার। নইলে পরবর্তী দুর্ঘটনা হয়তো আরও ভয়াবহ হবে।









Discussion about this post