স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি বিস্ফোরক অবস্থান নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—“পরিকল্পনা আর স্বপ্নের বুলি শুনে জনগণ ক্লান্ত, এখন দরকার বাস্তব পদক্ষেপ। আর সেই পদক্ষেপ শুরু হতে হবে শহরকে দখলমুক্ত করার মাধ্যমে।”
মাহবুবুর রহমান মাসুম কঠোরভাবে বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর কার্যত হকারদের দখলে চলে গেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবিকতার আড়ালে বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে পুরো শহরই অচল হয়ে পড়বে।
“হকারদের জন্য সহানুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু শহরকে জিম্মি করার অধিকার তাদের নেই”—এ মন্তব্য করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, দ্রুত হকারমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে না পারলে প্রশাসনের ব্যর্থতা আরও প্রকট হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে তিনি সরাসরি ‘দুর্নীতির আখড়া’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তার ভাষায়, “এখানে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট কাজ করছে, যাদের কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই, কিন্তু তারা কোটি টাকার খেলায় মেতে উঠেছে।”
দিনের বেলায় বর্জ্য অপসারণের নামে প্রহসন চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়মকে তোয়াক্কা না করে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী পুরো খাতটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি সাবেক জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এটি কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, এটি একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির নেটওয়ার্ক।”
পরিবহন খাত নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘মৌমিতা’সহ একাধিক অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রুট পারমিটবিহীন এসব যানবাহন কিভাবে প্রকাশ্যে চলাচল করে, সেটিই বড় প্রশ্ন। প্রশাসনের নীরবতা এখানে রহস্যজনক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্রে এনে কঠোর অভিযান চালাতে হবে, নয়তো এই অরাজকতা থামবে না।
মাসুম আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একাংশ প্রশাসনের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ঈদ ও রমজানকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
“কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে পুরো সিস্টেমকে জিম্মি করে রেখেছে”—বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আসে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে।
তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে।
“এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, কারা নিচ্ছে—এটি খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।”
অতীতের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যে সিন্ডিকেট আগে ছিল, সেটি ভেঙেছে কিনা, নাকি নতুন মুখে পুরোনো খেলাই চলছে—তা উদঘাটন করতে হবে।”
শেষে তিনি প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, “কাউকে প্রশ্রয় দিলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এতে শুধু ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নয়, পুরো রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই লড়াইয়ে জিততে হবে—কারণ প্রশাসন হারলে হারবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।”
তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট—নারায়ণগঞ্জ এখন শুধু উন্নয়ন পরিকল্পনার অপেক্ষায় নেই, বরং জরুরি ভিত্তিতে দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান অভিযানের দাবি জানাচ্ছে।









Discussion about this post