নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে আবারও তেল চুরি সিন্ডিকেটের ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে—যেখানে পুরনো গডফাদারদের ছায়া এখনো অটুট, আর তাদের উত্তরসূরিরাই চালাচ্ছে একই অবৈধ সাম্রাজ্য।
বলা হয়ে থাকে, দুর্নীতির শিকড় একবার গভীরে ঢুকে গেলে তা সহজে উপড়ে ফেলা যায় না।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তেল চুরি সিন্ডিকেট যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ।
কুখ্যাত গডফাদারখ্যাত শামীম ওসমান-এর ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা কথিত তেল চোরচক্রের অন্যতম হোতা সিরাজ মন্ডল—যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল।
৫ আগস্টের পর নিজে গা-ঢাকা দিলেও থেমে নেই তার অবৈধ সাম্রাজ্য। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারই উত্তরসূরিরা। বাবার অবৈধ ব্যবসা এখন পরিচালনা করছে তার “গুণধর” পুত্ররা—যা প্রমাণ করল সদ্য পরিচালিত প্রশাসনিক অভিযান।
মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় জেলা প্রশাসনের অভিযানে ফাঁস হয়ে যায় এই চক্রের আরেকটি ঘাঁটি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৯ হাজার ১০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সিফাত গাজী নামের এক ব্যক্তিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ওই গোডাউনের ম্যানেজার, যার মালিকানা রয়েছে সিরাজ মন্ডলের ছেলে জাহিদের হাতে। অর্থাৎ, পিতা পলাতক হলেও তার অবৈধ সাম্রাজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্ম।
এ ঘটনা শুধু একটি অভিযানের সাফল্য নয়, বরং প্রশাসনের জন্য একটি বড় প্রশ্নও তুলে দেয়—কিভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন বিশাল আকারের তেল চুরি সিন্ডিকেট গড়ে উঠলো ?
কারা ছিল তাদের পৃষ্ঠপোষক ? আর কেনই বা এখনো পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট শুধু তেল চুরি নয়—চাঁদাবাজি, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের মাঝে মাঝে অভিযান হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, ফলে অপরাধের চক্র থামছে না।
নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—এই তেল চোরদের দৌরাত্ম্য আর কতদিন ? কবে ভাঙবে এই গডফাদার নির্ভর দুর্নীতির সাম্রাজ্য ?
কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে, এই সিন্ডিকেট ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর রূপ নেবে—এমন আশঙ্কাই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।









Discussion about this post