নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এতে করে গণপূর্ত বিভাগের এই প্রকল্পকে ঘিরে নানা প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে—বিশেষ করে ব্যয় বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়ে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব তোলে।
কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে না পারায় প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্পটির আওতায় আলীগঞ্জে ১৫ তলা বিশিষ্ট একাধিক ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। মূল চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ৯৫ কোটি ২২ লাখ টাকা।
অথচ হঠাৎ করেই অতিরিক্ত ১৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১০৯ কোটির বেশি করার প্রস্তাব আনা হয়—যা অনেকের কাছেই ‘অস্বাভাবিক’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্ভরশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় মূলত: ছাত্রলীগের ক্যাডার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের অত্যন্ত চতুর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের সাথে ঠিকাদারদের গোপন বৈঠক হয়। এই বৈঠক থেকেই কিভাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আদায় করা যায় সে নিয়ে গোপন পরিকল্পনা করে হারুনুর রশিদ।সেই মোতাবেক প্রস্তাব করা হয় বিশাল এই অর্থের।
চতুর এই নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ আর ঠিকাদারদের গোপনে এই বৈঠকের খবর গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বড় অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কারিগরি কারণ, বাজারদরের পরিবর্তন কিংবা নকশাগত সংশোধনের প্রমাণ থাকা জরুরি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই স্বচ্ছতা অনুপস্থিত ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ কাজ করছে ?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিবিএল ও ডিসিএল-এর কাজের গুণগত মান, সময়মতো অগ্রগতি এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
এদিকে একই বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দুটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়—সরকার এখন বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে ব্যয় ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আলীগঞ্জের এই প্রকল্পটি এখন একটি “টেস্ট কেস”—যেখানে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হতে পারে।
সবশেষে প্রশ্ন একটাই—জনগণের টাকার প্রকল্পে ব্যয়ের এই অস্বচ্ছতা বন্ধ হবে কবে? নাকি এমন প্রস্তাব বারবার ফিরে আসবে নতুন রূপে ?









Discussion about this post