স্টাফ রিপোর্টার :
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও আবারও প্রমাণ হলো—সঠিক উদ্যোগ ও সমন্বয় থাকলে অল্প সময়েই বড় ধরনের সাফল্য অর্জন সম্ভব।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে সেই বার্তাই দিল আড়াইহাজার থানা পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি ইসমাঈল (৩০) অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ডিউটি অফিসার আরিফ হোসেন।
তিনি জানান, পুলিশের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে রাতেই ইসমাঈলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইসমাঈল থানার হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়—যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ ও ২৪ মার্চ খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকায় সংঘবদ্ধ হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন, যেখানে ইসমাঈলসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
তবে অভিযোগ ওঠে, থানার একটি কক্ষে রাখা অবস্থায় কৌশলে পালিয়ে যায় সে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজেও তার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে। যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন, যা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী একটি তদন্ত টিম গঠনের কথাও নিশ্চিত করেন।
তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এর আগেও চলতি মার্চ মাসে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত আসামিকে ২৪ ঘন্টার পূর্বেই অস্ত্র উদ্ধারসহ ছিনতাইকারী কে গ্রেফতারের নজির স্থাপন করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—পুলিশ ইচ্ছা করলে অপরাধী গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার মাত্র।
যথাযথ তৎপরতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন









Discussion about this post