স্টাফ রিপোর্টার :
আড়াইহাজার থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
দায়িত্বে অবহেলা, নাকি পরিকল্পিত ফাঁক—এই বিতর্কের মাঝেই উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) নেওয়া এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে গাফিলতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মার্চ। দুবাই প্লাজার সামনে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ইসমাইলকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে এসআই জহিরুল ইসলামের কক্ষে বসিয়ে রাখা হলে, সেখান থেকেই সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় সে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পেলেও পরদিন সকালে পুরো ঘটনা জানাজানি হয়, যা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় থানাজুড়ে।
তবে পালানোর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ আবারও তৎপরতা দেখিয়ে ৩১ মার্চ রাতে চর উচিৎপুরা বাজার এলাকা থেকে ইসমাইলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। এতে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, হেফাজত থেকে আসামি পালানোর মতো ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ওপর প্রশ্ন তোলে।
এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, থানার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাই শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই চলবে না, প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংস্কার করা।
এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে—এটি নিছক অবহেলার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো কারণ।









Discussion about this post