নগর প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর-চানমারি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল এক আতঙ্কের নাম—“রাজ্জাক বাহিনী”।
হত্যা, গুম, অপহরণ, মাদক কারবারসহ একের পর এক ভয়ংকর অভিযোগে জর্জরিত এই বাহিনীর প্রধান রাজ্জাক এবং তার পুত্র ওয়াসিম অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৩ রাউন্ড গুলি, যা প্রমাণ করে তারা শুধু অপরাধীই নয়, ছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসের সক্রিয় নিয়ন্ত্রক।
অতি সম্প্রতি এই রাজ্জাক পলাতক থাকলেও তার পুত্র ডাকাতি করতে গিয়ে অস্ত্র ও গাড়িসহ রাজধানীর মুগদা থানায় গ্রেফতার হলে দ্রুত জামিন মুক্তি পেয়ে আবার পারিবারিক সেই অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাছিলো।
তথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, রাজ্জাক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ—চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অপহরণ ও সহিংসতার মাধ্যমে একটি ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট গড়ে তোলে এই চক্র। অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না, আর যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা থাকলেও রহস্যজনকভাবে সে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রছায়ায় এতদিন সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল? কেন এতদিন তাকে গ্রেফতার করা যায়নি ?
এই গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, এটি কেবল বরফের চূড়া মাত্র।
কারণ, রাজ্জাক বাহিনীর মতো সংগঠিত অপরাধচক্র একদিনে গড়ে ওঠে না। এর পেছনে থাকে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, প্রভাবশালী মহলের নীরব সমর্থন এবং প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গ্রেফতার করলেই চলবে না—পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে হবে।
রাজ্জাক বাহিনীর সাথে জড়িত প্রতিটি সহযোগী, মদদদাতা এবং অর্থের উৎস খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে, এই ধরনের সন্ত্রাস আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
এখন সময় কঠোর বার্তা দেওয়ার—আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, মানুষকে জিম্মি করে আর পার পাওয়া যাবে না।
রাজ্জাকের গ্রেফতার যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অপরাধ যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত আইনের হাত থেকে রক্ষা নেই।









Discussion about this post