নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত আনোয়ার হোসেন আনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাসেল মাহমুদ জামিনে মুক্তির পর ফের নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত হয়েও তার বিরুদ্ধে এবার মামলার বাদীকে হয়রানি ও পুলিশি হয়রানির ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এমন ঘৃন্য অভিযোগ ছাড়াও গত ১৩ ১৬ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে একদল ঝুট সন্ত্রাসী নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এমন দুঃসাহে কর্মকান্ডের পর এবার এই আনু হত্যা মামলার বাদি ও নিজের বড় চাচাকে পুলিশের হাতে তুলে দিল সেই রাসেল মাহমুদ।
গত বছর ৯ জানুয়ারি কারামুক্ত হওয়ার পরই রাসেল মাহমুদ পরিকল্পিতভাবে নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী আবুল কাশেম বাদশাকে পথরোধ করে লাঞ্ছিত করেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরে তার অনুসারীদের মাধ্যমে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হত্যা, সম্পর্ক ও কেলেঙ্কারি—এক সুতোয় গাঁথা অভিযোগ
মামলার নথি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পারিবারিক সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করে চাচীর সঙ্গে রাসেলের অনৈতিক সম্পর্কই এই হত্যাকাণ্ডের মূল সূত্র।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আনোয়ার হোসেন আনুকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
এর আগে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়া, পারিবারিক ভাঙন, তালাক—সবকিছুর পরও পরিস্থিতি থামেনি। বরং ধাপে ধাপে তা গড়িয়েছে হত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতিতে—এমনটাই দাবি মামলার সংশ্লিষ্টদের।
“জামিন মানেই দৌরাত্ম্যের লাইসেন্স?”—প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, জামিনে মুক্তির পর একজন হত্যা মামলার আসামির বিরুদ্ধে আবারও একই মামলার বাদীকে টার্গেট করার অভিযোগ।
এতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশেষ করে বিএনপির ভেতরেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন—
একদিকে চাচাকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে সেই চাচার স্ত্রীকে বিয়ে; এরপর আবার বাদীকেই হয়রানি—এ যেন একের পর এক নৈতিক ও আইনি সীমা ভাঙার নজির।
ভয় ও ক্ষোভে নীরব নগরী
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও শক্তির বলয়ে থেকে বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন
একটি হত্যা মামলার আসামি জামিনে বেরিয়ে যদি বাদীকেই হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।









Discussion about this post