নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহর যেন আবারও ফিরছে অন্ধকার এক দুঃশাসনের চক্রে—শুধু মুখ বদলেছে, পদ্ধতি বদলায়নি।
এক সময় যাকে ‘গডফাদার’ তকমা দেওয়া হতো, সেই শামীম ওসমান আড়ালে চলে গেলেও তার ছায়া যেন রয়ে গেছে শহরের অলিতে-গলিতে।
আর সেই শূন্যস্থান পূরণে উঠে আসছে নতুন নাম—সাখাওয়াত ইসলাম রানা।
“রানার দেড় বছরের দাপট: অপরাধের ব্লুপ্রিন্ট!”
পটপরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতেই যে ক্ষমতার উন্মত্ত প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তারই সুযোগ নিয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রানা। অভিযোগ উঠেছে—শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনি বেছে নিয়েছেন সহিংসতা, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের পথ।
“হামলা-গুলিতে শহর জিম্মি”
দেড় বছরের ব্যবধানে রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এগুলো যেন একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়।
# শিবির নেতা গোলাম সারোয়ার সাঈদের ওপর প্রকাশ্য হামলা
# ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে পরিবহন নিয়ন্ত্রণে গোলাগুলি
# মৌমিতা বাসে চাঁদা না পেয়ে গুলি ও হামলা
# বিআইডাব্লিউটিএ’র জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়া
# প্রতিটি ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রভাব বিস্তারই ছিল মূল লক্ষ্য।
“গুম থেকে খুন : অভিযোগের শীর্ষে রানা”
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি এসেছে ইসদাইরের মাহফুজুর রহমান শুভ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে।
পরিবারের দাবি—দীর্ঘদিন অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর এর পেছনে রয়েছেন রানা নিজেই। নিহতের মা মাকসুদা বেগমের আর্তনাদ এখন শহরের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে—
“আমার ছেলেকে ফেরত চাইছিলাম, কিন্তু ফিরলো লাশ হয়ে!”
এই অভিযোগ শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
“প্রশাসন নীরব, দলও নিশ্চুপ—কার শক্তিতে ‘অধরা’ রানা ?”
অভিযোগের পাহাড় জমলেও রানার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা দলীয় ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠছে—
কেন এখনো গ্রেফতার নয়?
* কার আশ্রয়ে পলাতক থেকেও নিরাপদ?
* কেন দলীয় হাইকমান্ড নীরব?
* “খালি মাঠে ‘নিজেদের লড়াই’—নিয়ন্ত্রণহীন বিএনপি”
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায়। দীর্ঘদিন পর ‘খালি মাঠ’ পেয়ে বিএনপির ভেতরেই শুরু হয় আধিপত্যের লড়াই। একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন নিজেদের নেতাকর্মীরাই। আর সেই বিশৃঙ্খলার সুযোগেই উঠে আসছেন রানার মতো বিতর্কিত নেতারা।
“মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস—অভিযোগের শেষ নেই”
স্থানীয়দের অভিযোগ—মিশনপাড়া ও ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্যে আশ্রয় দিচ্ছেন রানা। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা—সবকিছু মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
“নারায়ণগঞ্জ কি আবারও ‘গডফাদার রাজনীতির’ কবলে?”
শহরের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন :-
# একজন যায়, আরেকজন আসে—তবে কি বদলায় কিছুই না ?
# রানা এখন পলাতক, কিন্তু তার প্রভাব কি শেষ?
# নাকি অদৃশ্য কোনো শক্তির ছত্রছায়ায় থেকে তিনি আবারও ফিরবেন ?
আইনের শাসন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা—এই তিনটির পরীক্ষা এখন নারায়ণগঞ্জে।
এই নীরবতা ভাঙবে কবে ? নাকি ভয়ই হয়ে উঠবে নতুন স্বাভাবিক ?









Discussion about this post