নগর প্রতিনিধি :
ফতুল্লায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দৌরাত্ম্যের লাগামহীন বিস্তার যেন আর থামছেই না। একের পর এক অভিযোগ, হামলা, গুলিবর্ষণ—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরেফিরে উঠে আসছে মশিউর রহমান রনি ও তার অনুসারীদের নাম।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা যেন একটি ভয়ংকর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ ঘটনায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ওয়েস্টিজ (ঝুট) ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মালামালসহ ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে রনির ভাগিনা সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুমন আহম্মেদ (৪২) ইতোমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা সুমন আহম্মেদের কাছে সিফাত (২৭), সোহেল (৩০), শান্ত (২৮), হাসান (৩০), জিসান (২৫)সহ ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল।
বৈধ ব্যবসা পরিচালনার কারণে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়—যা স্পষ্টভাবে একটি সংগঠিত চাঁদাবাজ চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।
গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বিসিক ৩ নম্বর গেট এলাকায় ভুক্তভোগীর অফিসে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়।
সন্ত্রাসীরা অফিসে ঢুকে পুনরায় চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
শুধু তাই নয়, পরে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মালামাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়া হয়—যা নিছক চাঁদাবাজি নয়, সরাসরি দস্যুতার শামিল।
এখানেই শেষ নয়—মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ৯ এপ্রিল, রনির নেতৃত্বে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ইমরানসহ আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে আবারও এমন দুঃসাহসিক হামলা প্রমাণ করে, আইনের প্রতি তাদের কোনো ভয় নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গুলিবর্ষণ মামলার আসামি হয়েও মশিউর রহমান রনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রচ্ছায়ায় এই দুঃসাহস? কেন এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এই সন্ত্রাসী চক্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অবৈধ ঝুট ব্যবসার কোটি কোটি টাকার প্রভাব খাটিয়ে রনি যেন পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং একটি ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি ফতুল্লার আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য এক গুরুতর সতর্কবার্তা। দ্রুত রনি ও তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এখন সময় এসেছে—দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। অন্যথায়, “আইনের শাসন” কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর বাস্তবে চলবে সন্ত্রাসীদের শাসন।









Discussion about this post