নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চৌধুরী বাড়ি পারিবারিক উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিদের গোসল দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঘরের উদ্বোধন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক এ আয়োজনটি প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লা পারিবারিক মিলনায়তন মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জমির উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ ব্যক্তিগত জায়গা সেবামূলক কাজে ব্যবহার করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে। ফলে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় চৌধুরী বাড়ির এই উদ্যোগকে তিনি “মহৎ ও বিরল” হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত সরকারের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও কবরস্থানের জন্য জমি দানের মতো উদ্যোগ সমাজকে আরও মানবিক ও বাসযোগ্য করে তুলবে। দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে নাগরিকদের সম্মিলিত প্রয়াস এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের সামাজিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পাশাপাশি তিনি ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভবিষ্যতে এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, সমাজসেবক হামিদুর রহমান চৌধুরী, আনিসুল এহসান চৌধুরী, ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ্, তোফাজ্জল চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানবিকতা, ধর্মীয় প্রয়োজন ও পরিবেশ সচেতনতার সমন্বয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি আরও জোরদার করবে।









Discussion about this post