নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘদিনের উদাসীনতা, দুর্নীতি আর নীরব মদদ শেষে অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ ধ্বংসকারী অসাধু শিল্প মালিকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
এতদিন যারা ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকাশ্যেই শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার) ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে এসব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানায়।
এর প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশেষে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের হস্তক্ষেপ না হলে প্রশাসন কখনোই এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নিত না।
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিংসহ আরও বেশ কয়েকটি কারখানা, যারা বছরের পর বছর কোনো ধরনের বর্জ্য শোধন ছাড়াই নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে শীতলক্ষ্যা নদী দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক দূষণের শিকার হয়েছে, যা শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকি তৈরি করেছে।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, পরিবেশ আইনের স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও এসব শিল্প মালিকরা আইনের তোয়াক্কা করেনি।
বরং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় তারা অবাধে পরিবেশ ধ্বংস চালিয়ে গেছে।
তিনি আদালতের কাছে এসব দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন কোথায় ছিল প্রশাসনের নজরদারি ?
কেন আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ?
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান সাময়িক প্রদর্শনী হয়ে থাকে, নাকি সত্যিকার অর্থে পরিবেশ রক্ষায় টেকসই ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়।









Discussion about this post