স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’ অবশেষে র্যাবের জালে ধরা পড়েছে।
শীর্ষ এই অপরাধী সোহেল কে এলাকায় ‘বহুরূপী সোহেল’ হিসেবে পরিচিত।
অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ অন্তত ১৪টি মামলার এই কুখ্যাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১, যা এলাকাবাসীর জন্য অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে।
আজ শনিবার (৯ মে) র্যাব-১১ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে বন্দর থানাধীন মদনপুরের আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই সন্ত্রাসী।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল বন্দর উপজেলার মদনপুর আন্দিরপাড় এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তবে তার পরিচয় শুধুমাত্র একজনের সন্তান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়—স্থানীয়দের কাছে সে ছিল এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম।
অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র, যারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
র্যাব জানায়, নির্মাণাধীন ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি নদীপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রলার থেকেও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করত সোহেলের বাহিনী।
চাঁদা না দিলে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
একই সঙ্গে মদনপুর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে সে, যা স্থানীয় যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাসহ বন্দর থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে, যার সংখ্যা অন্তত ১৪টি।
এতগুলো মামলার পরও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এতদিন কোথায় ছিল প্রশাসনের তৎপরতা? কীভাবে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এমন অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারে? তার পেছনে কারা ছিল—এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
র্যাব-১১ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহেলকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু গ্রেপ্তারেই শেষ নয়—তার সহযোগী চক্র, অর্থের উৎস এবং পেছনের প্রভাবশালী মহলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এই গ্রেপ্তার সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান আনবে না।
সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রয়োগ এখনই সময়ের দাবি—নয়তো ‘ক্যাডার সোহেল’দের পতনের পর আবারও জন্ম নেবে নতুন কোনো সন্ত্রাসীর।









Discussion about this post