স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশকে ঘেরাও করে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হত্যা, মাদক ও অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি শামীম মিয়া (৪২)কে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেট এলাকা থেকে র্যাব-১৫ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে। এ সময় তার ছয় সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মানিক ঢালি (৩৪), আব্দুল করিম (৩৫), আবুল হোসেন (৪২), খালিদ হাসান (৩০), রুবেল হাসান (৩২) ও মাসুদ মিয়া (৩৪)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ জানায়, গত ৫ মে ভোরে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে শামীম মিয়াকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। তিনি হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ ডজনখানেক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
তারা পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে ফেলে এবং একপর্যায়ে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের মাধ্যমে শামীম মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের একটি ওয়াকিটকি ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে ৬ মে একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হলেও এখনো মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার হয়নি।
মামলা ও অভিযান
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার এসআই ইউনুস আলী খান বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— পুলিশে হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পদ নষ্ট করা।
পুলিশ জানায়, ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চনপাড়া এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
ঘটনার পর থেকেই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে পুরো এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খাদিজা আক্তার জানান, “সব সময় ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এখনও আতঙ্ক কাটেনি। পুলিশের ভয়ে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কার
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শামীম মিয়াকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৫ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
পুলিশের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”









Discussion about this post