নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ টিভি: অবশেষে কারামুক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
বুধবার (রাত ১০টা) গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে আইভীর জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাকে নিতে তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা কারাগারের সামনে উপস্থিত ছিলেন। মুক্তির পর তাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ মে আপিল বিভাগ ১০টি মামলায় তার জামিন বহাল রাখে। পরবর্তীতে বাকি দুই মামলাতেও হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি, যা পরে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। ফলে তার মুক্তির পথ সুগম হয়।
আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, আপিল বিভাগের আদেশ নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছানোর পর সেখানে জামিন কার্যকর করার জন্য আবেদন করা হয়।
আদালতের অনুমোদনের পর কাগজপত্র কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ১৮ আগস্ট আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তার সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
গ্রেফতারের পর তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন মামলায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার আইনজীবীরা এ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেয়।
ডা. আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।









Discussion about this post