নিজস্ব প্রতিবেদক :
কারাগারের নির্জন দিনগুলোতে সুরের মূর্ছনা হয়ে সঙ্গী ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য । আর সেই সুরেই কাটতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র -র বন্দিজীবনের অনেকটা সময়।
জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় ফিরে জেলজীবনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এসব কথা জানান আইভী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় তিনি বলেন, জেলের অবসর মুহূর্তগুলোতে প্রায়ই গানের আসর বসতো, যেখানে মূল শিল্পী ছিলেন মমতাজ বেগম।
তবে একটি গান—“আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া”—শুনতে চাননি আইভী।
কারণ, গানটি শুনলেই তাঁর সদ্য প্রয়াত ছোট ভাই রিপনের-এর স্মৃতি তাকে নাড়া দিত।
তিনি মমতাজকে অনুরোধ করেছিলেন, মুক্তির দিন যেন এই গানটি গাওয়া হয়।
ঘটনাচক্রে, মুক্তির দিন বিকেলেই সেই গান গেয়েছিলেন মমতাজ—যদিও তখনও আইভী জানতেন না তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে মারা যান রিপন। এর মাত্র এক মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন আইভী।
ব্যক্তিগত শোকের সেই গভীর ক্ষত নিয়েই তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাবাসের সময়।
কারাগারে বসেই একটি কবিতা লেখেন আইভী। সেই কবিতায় সুর দিয়ে গান তৈরি করেন মমতাজ বেগম। যদিও নিজের লেখার মান নিয়ে বিনয়ী আইভী বলেন, “আমি কি আর কবিতা লিখতে পারি! খুবই বাজে হয়েছে।”
তবে মমতাজের মতে, সেই লেখাতেই রয়েছে হৃদয়ের গভীর অনুভূতি, যা গান হয়ে প্রকাশ পাবে খুব শিগগিরই।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই আছে তাঁর বাসায়। ফোনকল আর সাক্ষাতে কাটে পুরো রাত, ঘুমানোর সুযোগও হয়নি তাঁর।
ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিকেলে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
এদিকে, তাঁর বাসার সামনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এটি কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন স্থানে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র (২০০৩-২০১১) এবং পরে সিটি করপোরেশনের টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কারাগারের নির্জনতায় গড়ে ওঠা গান, কবিতা আর স্মৃতির এই গল্প যেন তাঁর জীবনের এক ভিন্ন অধ্যায়—যেখানে রাজনীতি নয়, মানুষ আইভীর অনুভূতি আর বেদনার কথাই বেশি করে সামনে এসেছে।









Discussion about this post