স্টাফ রিপোর্টার :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মো. আবুল হাসানের মৃত্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নিহতের বড় ভাই মো. আবুল বাশার।
জবানবন্দিতে আবুল বাশার দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তাঁর ছোট ভাই আবুল হাসান বন্দর থানার কুশিয়ারা এলাকার বাসা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে চাষাড়া মোড়ের উদ্দেশে রওনা দেন।
সেখানে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে তারা মিশনপাড়া এলাকায় যান এবং পুনরায় চাষাড়া মোড়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবএইড হাসপাতালের গলির কাছে পৌঁছালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানসহ ১০০–২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এ সময় অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি আবুল হাসানের বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে আবুল হাসানকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। পরে দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
আবুল বাশার জানান, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে তাঁর ভাই প্রথমেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
‘হাসিনার পতন হয়েছে কি না’—এ প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক খবর শুনে তিনি মুচকি হাসেন এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন।
পরদিন, ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হাসানের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।









Discussion about this post