স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক মর্মান্তিক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার সদাসদী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ইতোমধ্যে ধর্ষণকারীর পিতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের পর্মেশ্বর্দী এলাকার জাকির হোসেনের ৭ বছর বয়সী কন্যা তার পরিবারের সঙ্গে সদাসদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
ঘটনার সময় শিশুটি ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর একই বাড়ির ভাড়াটিয়া কামাল হোসেনের ছেলে সিয়াম (২৪) তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে তার মা ছুটে এলে অভিযুক্ত সিয়াম পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় বাড়ির মালিক শরীফ ও তার ছেলে শান্ত প্রথমে সিয়ামকে আটক করলেও পরে রহস্যজনকভাবে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে ঘটনাটি আরও ক্ষোভের জন্ম দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত শরীফ ও তার ছেলে শান্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সিয়ামের পিতা কামাল হোসেনসহ বাড়ির মালিক শরীফ ও তার ছেলে শান্তকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সিয়াম এখনও পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
তাদের একটাই দাবি—শিশু নির্যাতনকারী সিয়াম এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সর্বোচ্চ ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
কঠোর বার্তা প্রয়োজন
এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধীকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয়ভাবে সহায়তার অভিযোগ—যা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়, বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে যারা অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।









Discussion about this post